মাফিয়ার_অবাধ্য_আসক্তি
18+ আলার্ট, যাদের এমন গল্প পছন্দ না তারা এড়িয়ে চলবেন ) )
আরসালানের চোখের দৃষ্টি এখন আর কেবল রাগের নয়, তা এক আদিম ও হিংস্র নেশায় আচ্ছন্ন। আলভিরা আরসালানের নিচে ছটফট করছে, আলভিরার ধনুকের মতো বাঁকানো শরীর আর উন্মুক্ত বক্ষদেশের বিভাজিকা আরসালানের ভেতরের পশুটাকে পুরোপুরি জাগিয়ে তুলল যেন। আলভিরার অবাধ্যতা আরসালানকে যেন আরও উসকে দিল।
হঠাৎ করেই আরসালান আরও নিচে ঝুঁকে এল। আলভিরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই আরসালান তার উন্মুক্ত বক্ষদেশের কোমল ত্বকে সজোরে নিজের দাঁত বসিয়ে দিল। আলভিরা যন্ত্রণায় আর্তনাদে শরীরটা ধনুকের মতো তীব্রভাবে কেঁপে উঠল। কামড়টা ছিল গভীর, পৈশাচিক এবং একইসাথে অধিকারবোধে ভরা।
"আহ্! ছাড়ুন... আপনি একটা জানোয়ার!" আলভিরা দাঁতে দাঁত চেপে গোঙাতে লাগল, দুচোখ দিয়ে নোনা জল গড়িয়ে পড়ল বিছানায়।কিন্তু আরসালান থামল না। সেই কামড়ের জায়গায় নিজের ঠোঁট চেপে ধরে, যেন সে আলভিরার শরীরের প্রতিটি রক্তবিন্দুতে নিজের নাম লিখে দিচ্ছে। আলভিরার ফর্সা ত্বকে দাঁতের গভীর লাল দাগ বসে গেল—একটা স্থায়ী চিহ্ন, যা তাকে প্রতি মুহূর্তে মনে করিয়ে দেবে যে সে এখন আরসালান শেখের বন্দিনী।
আরসালান মুখ তুলে আলভিরার দিকে তাকাল। ঠোঁটের কোণে আলভিরার শরীরের উষ্ণতা আর গলার কাটা দাগ থেকে চুইয়ে পড়া রক্ত মিলেমিশে এক ভয়ঙ্কর লাল আভা তৈরি করেছে। "এই ব্যথাটা মনে রেখো আলভিরা। এটা কেবল শুরু। যতবার তুমি আমার অবাধ্য হবে, ততবার আমি তোমার শরীরে এভাবেই নিজের মালিকানা লিখে দেব।"
আলভিরা যন্ত্রণায় আর অপমানে নিস্তেজ হয়ে গেছে। শরীরে আর লড়াই করার শক্তি নেই।
আলভিরা ভাঙা গলায় আরসালানকে জিজ্ঞেস করল, "কেন করলেন এমন? কেন বিয়ে করলেন আমায়? সিডনিতে কি মেয়ের অভাব ছিল? আপনার মতো একজন ক্ষমতাধর মানুষের জন্য তো যেকোনো মেয়েই রাজি হতো। তবে আমার মতো একজন সাধারণ মেয়েকে কেন এই নরকে টেনে আনলেন?"
আরসালান তখন ড্রেসিং টেবিলের আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের গলার সেই কাটা দাগটা দেখছে। পকেট থেকে একটা রুমাল বের করে রক্তটুকু মুছে নিয়ে সে ধীরপায়ে আলভিরার দিকে এগিয়ে এল।
আরসালান বিছানার এক কোণে বসল আলভিরার চিবুকটা শক্ত করে ধরে মুখটা নিজের দিকে উঁচু করল। চোখে তখন এক পৈশাচিক আনন্দ চিকচিক করছে।
"বিয়ে?" আরসালান তাচ্ছিল্যের সাথে হাসল। "তুই কি ভেবেছিলি আমি তোকে ভালোবেসে বা ঘর সংসার করার জন্য এই প্রাসাদে এনেছি? ভুল ভাবছিস । তোকে বিয়ে করাটা আমার কোনো শখ নয়, বরং এটা আমার একটা দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা।"
আলভিরার চোখের দিকে তাকিয়ে আরও নিষ্ঠুরভাবে বলতে লাগল—
"তোর বাবা ভেবেছে তোকে আমার হাতে তুলে দিয়ে সে তার ঋণের বোঝা কমিয়েছে। কিন্তু সে জানে না, সে আসলে তোকে এক জীবন্ত আগুনের কুণ্ডলীতে ফেলে দিয়েছে। তোর পরিবারকে আমি তিলে তিলে শেষ করতে চাই। আর সেই যন্ত্রণার শুরুটা হবে তোকে দিয়ে। আমি চাই তোর বাবা প্রতিদিন খবরের কাগজে, লোকমুখে শুনুক যে তার আদরের মেয়েটা আরসালান শেখের পায়ের নিচে পিষ্ট হচ্ছে।"
আরসালান আলভিরার চিবুকে আরও একটু চাপ দিয়ে বলল, "তোকে আমি এক মুহূর্তে মেরে ফেললে তো সব শেষ হয়ে যেত। কিন্তু আমি চাই তুই তিলে তিলে মর। তোর এই সুন্দর শরীর আর আত্মা যখন প্রতিদিন আমার অপমানে নীল হবে, তখন সেই খবর তোর বাবার কানে পৌঁছালে তার বুকে যে জ্বালা হবে—সেটাই হবে আমার আসল প্রতিশোধ। তোর পরিবারকে ধ্বংস করার জন্য তুই আমার সবথেকে বড় অস্ত্র, ।"
আলভিরা পাথরের মতো স্তব্ধ হয়ে শুনছে। বুঝতে পারল, তার বাবার কোনো এক পুরনো শত্রুতার মাশুল দিতে হচ্ছে তাকে। কোনো কথা বলতে পারল না, শুধু তার বুকটা ভেঙে এক দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল।
---
সকালে জারা হাতে একটা চাবুক আর এক বালতি বরফ শীতল জল নিয়ে ঘরে ঢুকেছে। আলভিরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই জারা সেই ঠান্ডা জলটা আলভিরার গায়ের ওপর ঢেলে দিল।
"উত্ ওঠ! আরসালানের বিছানায় শুয়ে কি নিজেকে এই বাড়ির মালকিন ভাবা শুরু করেছিস?" জারা কর্কশ গলায় চিৎকার করে উঠে। "আরসালান বাইরে গেছে, আর যাওয়ার সময় তোকে আমার জিম্মায় দিয়ে গেছে। মনে রাখিস, কাল রাতে তুই নর্তকী ছিলি, আজ তুই এই বাড়ির সাধারণ একজন দাসী।"
আলভিরা কাঁপতে কাঁপতে উঠে দাঁড়াল। ভেজা পাতলা পোশাক শরীরের সাথে লেপ্টে আছে, কালকের সেই কামড়ের দাগটা এখন নীলচে হয়ে ফুলে উঠেছে। জারা টানতে টানতে নিচে নিয়ে এল।
নতুন গল্প পেতে facebook.com/safemotivation70) ফলো করে রাখুন।
সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জারা আলভিরাকে দিয়ে অমানুষিক খাটুনি করিয়ে নিল। বিশাল হলরুমের মেঝে ঘষে ঘষে পরিষ্কার করা, বাগানের আগাছা পরিষ্কার করা, এমনকি জারার জুতো পর্যন্ত পালিশ করতে হলো তাকে। জারা সোফায় বসে কফি খাচ্ছিল আর মাঝে মাঝেই আলভিরার দিকে চাবুক উঁচিয়ে ভয় দেখাচ্ছিল।
কিন্তু জারা যেটা বুঝতে পারেনি, তা হলো আলভিরার এই শান্ত থাকাটা আসলে একটা ঝড়ের পূর্বাভাস।
কাজ করার ফাঁকে ফাঁকে আলভিরা খুব সতর্কভাবে প্রাসাদের চারপাশটা পর্যবেক্ষণ করছিল।
গার্ডদের শিফটিংদুপুর দুইটোর সময় প্রধান ফটকের গার্ডরা পাঁচ মিনিটের জন্য ভেতরে কফি খেতে যায়। জারার অসতর্কতাজারা যখন আয়নার সামনে মেকআপ করতে ব্যস্ত থাকে, তখন সে বাইরের জগতের কথা ভুলে যায়। গাড়ির চাবি আরসালানের ড্রেসিং রুমের ড্রয়ারে সবসময় একটা অতিরিক্ত গাড়ির চাবি থাকে।
আলভিরা মনে মনে বলল, "আরসালান ভেবেছে আমাকে তিলে তিলে মারবে। কিন্তু আজ রাতেই আমি এই জ্যান্ত নরক থেকে মুক্তি পাব। ভাইয়াকে আমাকে খুঁজে বের করতেই হবে।"
বিকেলের দিকে জারা আলভিরাকে হুকুম দিল আরসালানের লাইব্রেরি ঘরটা গুছিয়ে রাখতে। আলভিরা এটাই চাচ্ছিল। লাইব্রেরি ঘরের জানালা দিয়ে পেছনের পাঁচিলটা টপকানো সবথেকে সহজ। আলভিরা লাইব্রেরিতে ঢুকে একটা সরু লোহার রড খুঁজে পেল যা দিয়ে জানালার লকটা বাইরে থেকে খোলা সম্ভব।
ঠিক তখনই দরজার কাছে কারো পায়ের শব্দ শোনা গেল। আলভিরা তাড়াতাড়ি রডটা নিজের কোমরে গুঁজে ফেলল। আলভিরা জানে, ধরা পড়লে আরসালান তাকে জ্যান্ত কবর দেবে, কিন্তু পালানোর এই সুযোগ সে হাতছাড়া করবে না।
আরসালান যখন বাড়িতে ফিরল, তখন রাত প্রায় একটা। মাতাল অবস্থায় টলতে টলতে লিভিং রুমে ঢুকে। শার্টের উপরের কয়েকটা বোতাম খোলা, চুলগুলো এলোমেলো। আরসালান আজ অন্যদিনের চেয়েও বেশি হিংস্র মেজাজে আছে। জারা এগিয়ে নিতে এলে এক ঝটকায় জারাকে সরিয়ে দিয়ে চিৎকার করে আলভিরাকে ডাকে।
আলভিরা ভয়ে ভয়ে সামনে গিয়ে দাঁড়াল।আরসালান তার মাতাল চোখ দুটো দিয়ে আলভিরাকে একবার ওপর-নিচ দেখল, তারপর টলতে টলতে ঘরের দিকে চলে গেল।
আরসালান ঘরে গিয়ে বিছানায় ধপাস করে শুয়ে পড়ল। কয়েক মিনিটের মধ্যেই —মদের ঘোরে সে অচেতন। আলভিরা বুঝল, এটাই তার জীবনের সেরা এবং শেষ সুযোগ।
আলভিরা খুব সাবধানে নিজের রুম থেকে বেরিয়ে এল। পায়ে কোনো জুতো নেই, যাতে শব্দ না হয়। পা টিপে টিপে আরসালানের ঘরের দরজায় গিয়ে দাঁড়ায়। যদি আরসালান এখনই জেগে যায়, তবে তার মৃত্যু নিশ্চিত।অত্যন্ত সন্তর্পণে ঘরে ঢুকে ড্রয়ার থেকে গাড়ির সেই অতিরিক্ত চাবিটা তুলে নিল। তারপর আরসালানের ওয়ালেট থেকে কিছু নগদ ডলার হাতিয়ে নিল—বাইরে টিকে থাকার জন্য এটার খুব প্রয়োজন ছিল। বের হওয়ার সময় একবার আরসালানের ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকাল। যে মানুষটা তার জীবন বিষিয়ে দিয়েছে, তাকে ঘৃণাভরে এক পলক দেখে আলভিরা ঘর থেকে বেরিয়ে এল।
লাইব্রেরি ঘরে গিয়ে জানালার সেই রডটা দিয়ে লকটা নিঃশব্দে খুলে ফেলল। বাইরে তখন ঝোড়ো হাওয়া বইছে, যা আলভিরার জন্য শাপে বর হলো যেন। হাওয়ার শব্দে পায়ের আওয়াজ ঢাকা পড়ে যাচ্ছিল। জানালা দিয়ে গলে পেছনের বাগানে নামল।
পেছনের পাঁচিলের কাছে গিয়ে আলভিরা দেখল, ওপরে ধারালো কাঁটাতারের বেড়া। আলভিরা নিজের গায়ের কেপটা খুলে কাঁটাতারের ওপর বিছিয়ে দিল। হাত-পা ছড়ে গিয়ে রক্ত বের হতে লাগল, কিন্তু সেদিকে তার ভ্রুক্ষেপ নেই। দাঁতে দাঁত চিপে পাঁচিলটা টপকে বাইরের রাস্তায় ঝাঁপ দিল।
সিডনির এই নির্জন রাস্তায় বৃষ্টির ঝাপটা শুরু হয়েছে। আলভিরা পেছনে না তাকিয়ে দৌড়াতে শুরু করে। কিছুদূর গিয়েই আরসালানের সেকেন্ডারি গ্যারেজটা খুঁজে পেল, যেখানে একটা কালো রঙের অডি রাখা ছিল। চাবিটা টিপতেই গাড়িটা ব্লিংক করে উঠল।
আলভিরা দ্রুত গাড়িতে উঠে স্টার্ট দিল। হাত কাঁপছে, কিন্তু মনের জোর পাহাড়সম। আরসালান সকালে জেগে ওঠার আগেই তাকে অনেকটা দূরে চলে যেতে হবে।
গাড়িটা ঝড়ের গতিতে হাইওয়ের দিকে এগিয়ে চলছে। স্টিয়ারিং শক্ত করে ধরে বিড়বিড় করে বলল—
"আরসালান শেখ, তুমি আমাকে তিলে তিলে মারতে চেয়েছিলে। কিন্তু এখন আমি মুক্ত। তোমার এই নরক থেকে আমি পালালাম, আর এবার আমি ফিরব তোমার ধ্বংসের কারণ হয়ে!"
আলভিরা অডি গাড়িটা নিয়ে গেট দিয়ে বেরিয়ে গেল, এদিকে সে জানত না যে তার প্রতিটি পদক্ষেপ আসলে আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। আরসালান আদতে অতটা মাতাল ছিল না। তার ঘরে আধো-অন্ধকারে বসে হাতে থাকা আইপ্যাডটার দিকে তাকিয়ে এক পৈশাচিক হাসি হাসছে।
আইপ্যাডের স্ক্রিনে সিসিটিভি ফুটেজ দেখা যাচ্ছে। আলভিরা কীভাবে পা টিপে ঘরে ঢুকল, চাবি নিল, এমনকি জানালা দিয়ে গলে পাঁচিল টপকাল—সবকিছু আরসালান দেখছে।
ড্রেসিং টেবিলের আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের গলার সেই হালকা কাটার দাগটায় আঙুল ছোঁয়াল। তারপর ফোন তুলে সিকিউরিটি চিফকে কল দিল।
"বুনো বিড়ালটা খাঁচা থেকে বেরিয়েছে। খেয়াল রেখো,
আরসালান এক গ্লাস দামি হুইস্কি ঢালল।
এদিকে আলভিরা তখন ঝড়ের গতিতে গাড়ি চালাচ্ছে। মনে এক অদ্ভুত স্বস্তি যে সে মুক্ত। কিন্তু সে লক্ষ্য করল না যে, তার গাড়ির ড্যাশবোর্ডের একদম কোণে একটা ছোট্ট লাল বাতি জ্বলছে—জিপিএস ট্র্যাকার। আরসালান তাকে পালানোর সুযোগ দেয়নি,
গাড়ি চালাতে চালাতে আলভিরা হঠাৎ একটা নির্জন পেট্রোল পাম্পের সামনে থামল। ভাবল কোনোভাবে ভাইয়ার খবর বের করার চেষ্টা করবে। কিন্তু সে গাড়ি থেকে নামার সাথে সাথেই তার পেছনে একটা কালো রঙের এসইউভি এসে ব্রেক কষল।
গাড়ির কাঁচ নামতেই আলভিরা দেখল সেখানে আরসালানের প্রধান বডিগার্ড বসে আছে। খুব শান্ত গলায় বলল, "ম্যাম, গাড়িটা ওখানেই রেখে আমাদের সাথে চলুন।" #story #গল্প #রোমান্টিক #safemotivation #foryouシ #নতুন #safe_motivation
আলভিরার পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে গেল। তার মুক্তির আনন্দ এক মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হলো। বুঝতে পারল, সে আসলে কখনোই পালায়নি; আরসালান তাকে নিয়ে কেবল বিড়াল-ইঁদুর খেলছে।
বডিগার্ডদের দেখে আলভিরার সারা শরীর রাগে রি রি করে উঠল। চিৎকার করে বলল, "আমি যাব না! আমাকে মেরে ফেললেও আমি আর ওই নরকে ফিরব না!"
কিন্তু আরসালানের বডিগার্ডরা কোনো কথা শোনার পাত্র নয়। দুজন সুঠামদেহী গার্ড আলভিরাকে ধরে এসইউভি গাড়িতে এক প্রকার ছুড়ে ফেলল। আলভিরা লাথি মারল, নখ দিয়ে আঁচড়ে দিল, কিন্তু তাদের পাথরের মতো শরীরে কোনো কাজ হলো না। গাড়ির দরজা লক করে দেওয়া হলো। আলভিরা জানালার কাঁচে কিল মারতে মারতে কাঁদতে লাগল—তার সব পরিকল্পনা, সব আশা এক নিমিষেই ধুলোয় মিশে গেল।
প্রাসাদে ফেরার পর বডিগার্ডরা তাকে হিড়হিড় করে টেনে দোতলার সেই পরিচিত রুমের দিকে নিয়ে গেল। পুরো প্রাসাদ নিস্তব্ধ, শুধু করিডোরে আলভিরার রাগান্বিত নিঃশ্বাসের শব্দ শোনা যাচ্ছে। গার্ডরা তাকে রুমের ভেতর ধাক্কা দিয়ে ঢুকিয়ে দিয়ে বাইরে থেকে দরজা আটকে দিল।
নতুন গল্প পেতে facebook.com/safemotivation70) ফলো করে রাখুন।
ঘরটা ঘুটঘুটে অন্ধকার। কোনো আলো জ্বলছে না। আলভিরা হাঁপাচ্ছে, ভেজা চুলগুলো মুখে লেপ্টে আছে।
হঠাৎ করেই রুমের এক কোণ থেকে একটা লাইটারের শিখা জ্বলে উঠল। আগুনের সেই হালকা আলোয় দেখা গেল আরসালান একটা আরামকেদারায় বসে আছে। তার হাতে একটি জ্বলন্ত সিগারেট। সিগারেটের ধোঁয়া অন্ধকারের ভেতর কুণ্ডলী পাকিয়ে ওপরে উঠছে। আরসালান কোনো কথা বলছে না, শুধু স্থির দৃষ্টিতে আলভিরার দিকে তাকিয়ে আছে।
ঘরটা আবার অন্ধকারে ডুবে গেল, শুধু সিগারেটের অগ্রভাগটা আগুনের বিন্দুর মতো জ্বলছে। হঠাৎ আরসালান এক ঝটকায় আলভিরাকে কাছে টেনে নিল। আলভিরা তার শক্ত বুকের ওপর আছড়ে পড়ল। আরসালানের গায়ের সেই তামাক আর দামী পারফিউমের গন্ধ আলভিরার মাথা ঝিমঝিম করে তুলল।
চলবে~
#মাফিয়ার_অবাধ্য_আসক্তি_
#লেখিকা_ইনায়া_জারিশ_
#পর্ব৪
(প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য !)
(18+ আলার্ট, যাদের এমন গল্প পছন্দ না তারা এড়িয়ে চলবেন )
"পালানোর চেষ্টা করেছিস, তাই না?" আরসালান দাঁতে দাঁত চেপে বলল।
আরসালান আলভিরাকে একটা লোহার পিলারের কাছে নিয়ে গেল। আলভিরার দুই হাত মাথার ওপরে তুলে নিজের বেল্ট দিয়ে পিলারের সাথে শক্ত করে বেঁধে দিল। আলভিরা ছটফট করতে লাগল, "কী করছেন এটা? হাত খুলুন!
আরসালান কোনো উত্তর দিল না। ঘরের কোণ থেকে একটা লম্বা আইস-বক্স টেনে নিয়ে এল। ভেতর রাখা ছিল বড় বড় বরফের টুকরো। আরসালান একটা বড় বরফের খণ্ড তুলে নিয়ে আলভিরার ফর্সা পিঠের ওপর দিয়ে ঘষতে শুরু করe।
"উউহ্! মাগো!" আলভিরা ঠান্ডায় আর যন্ত্রণায় কঁকিয়ে উঠে। বরফ শীতল ছোঁয়া উষ্ণ ত্বকের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল, মনে হচ্ছে কেউ ধারালো ছুরি দিয়ে চামড়া চিরে ফেলছে।
আরসালান থামল না। বরফটা আলভিরার কাঁধ থেকে শুরু করে কোমরের ভাঁজ পর্যন্ত সজোরে ঘষতে লাগল। আলভিরার শরীর ঠান্ডায় নীল হয়ে আসছে, থরথর করে কাঁপছে। তোর মনে যে পালানোর আগুন জ্বলছিল, সেই আগুনটা আমি এভাবেই নিভিয়ে দেব।"
বরফের ঘর্ষণে আলভিরার শরীরের ড্রেসটা ভিজে একাকার হয়ে গেল।
আলভিরা আর সহ্য করতে না পেরে ডুকরে কেঁদে উঠে। কান্না আর গোঙানি অন্ধকার ঘরে প্রতিধ্বনিত হতে লাগল। আরসালান এবার আলভিরার সামনে এসে দাঁড়ায়। এক হাত দিয়ে আলভিরার ভেজা চুলগুলো পেছনে টেনে ধরে।
"তোর বাবা তোকে আমার হাতে তুলে দিয়েছে তিলে তিলে মরার জন্য। আর আমি সেই কাজটা খুব নিখুঁতভাবে করছি।
বলেই আরসালান বাকি বরফ জলটুকু আলভিরার পায়ের কাছে ঢেলে দিল। আলভিরা থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে নিস্তেজ হয়ে এল, কিন্তু হাত পিলারের সাথে বাঁধা থাকায় বসে পড়ার সুযোগও পেল না। আরসালান ঘরে আবার সিগারটা ধরায়। ধোঁয়ার আড়ালে নিষ্ঠুর চোখ দুটো আলভিরার অবশ হয়ে যাওয়া শরীরের ওপর দিয়ে ঘুরতে লাগল।
আলভিরাকে দেখে মনে বিন্দুমাত্র দয়া হলো না, বরং তার অসহায়ত্ব আরসালানের ভেতরের পশুটাকে আরও উসকে দিল।
আরসালানের নিষ্ঠুরতা যেন এক নতুন উন্মাদনায় রূপ নিল।, আরসালান ড্রয়ার থেকে একজোড়া চকচকে স্টিলের হ্যান্ডকাফ বের করল। ঝড়ের গতিতে আলভিরার কাছে গিয়ে দুই হাত টেনে ধরে।
আলভিরা কোনো বাধা দেওয়ার শক্তিটুকুও হারিয়ে ফেলেছে। আরসালান সজোরে আলভিরার দুই হাতে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে দিল খাটের ওপরের আটকে দিল। এখন আলভিরা খাটের ওপর চিত হয়ে শুয়ে থাকতে বাধ্য, দুই হাত মাথার ওপরে টানটান হয়ে বাঁধা।
হ্যান্ডকাফ আটকানোর পর আরসালান সোজা হয়ে দাঁড়ায়। চোখে এক পৈশাচিক তৃপ্তি। টেবিল থেকে মদের বোতল আর একটা গ্লাস তুলে নিল। খাটের পাশেই একটা সোফায় বসার বদলে সরাসরি আলভিরার পাশে বিছানায় আয়েশ করে বসে।
গ্লাসে কড়া হুইস্কি ঢেলে এক চুমুক দিল। আরসালান এক হাতে গ্লাস ধরে অন্য হাতে আলভিরার ফর্সা পেটের ওপর দিয়ে গ্লাসটা স্লাইড করতে লাগে। বরফ শীতল গ্লাসের স্পর্শে আলভিরার শরীরটা ধনুকের মতো বারবার বেঁকে উঠছে, কিন্তু হ্যান্ডকাফের কারণে নিজেকে সরাতে পারছে না আলভিরা।
"খুব তেজি ঘোড়া ছিলে তুমি,," আরসালান মাতাল গলায় হাসে। গ্লাসের বাকি মদটুকু আলভিরার গলার কাছে ঢেলে দিল। "এখন দেখো, আমার বিছানায় তুমি কতটা অসহায়। তোমার এই ছটফটানি দেখতে আমার মদের নেশার চেয়েও বেশি ভালো লাগছে।"
মদ খেতে খেতে আরসালানের চোখ দুটো ভারী হয়ে এল। গ্লাসটা একপাশে সরিয়ে রেখে ধপাস করে আলভিরার ঠিক পাশেই শুয়ে পড়ল। শরীরের বিশাল ভার আর আলভিরার কোমল শরীরের ওপর আছড়ে পড়ল। মাতাল অবস্থায় আরসালান তার এক হাত আলভিরার কোমরের ওপর সজোরে চেপে ধরল, যেন ঘুমের মধ্যেও সে শিকারকে হাতছাড়া করতে চায় না।
আলভিরা নিথর হয়ে পড়ে রইল। হাত দুটো মাথার ওপরে হ্যান্ডকাফে বন্দি, পাশে আরসালান মদের ঘোরে অঘোরে ঘুমাচ্ছে। জানলার বাইরে দিয়ে আসা চাঁদের আলোয় আলভিরার বিধ্বস্ত চেহারা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। যন্ত্রণায় চোখ বুজে রইল, গাল বেয়ে নোনা জল গড়িয়ে আরসালানের হাতের ওপর পড়ল—কিন্তু আরসালান তখন গভীর ঘুমে মগ্ন।

____
ভোরের আলো যখন জানলার পর্দা ভেদ করে ঘরে ঢুকল, তখন ঘরটা এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতায় আচ্ছন্ন। আরসালানের মদের নেশা কেটে গেছে। চোখ মেলে দেখল আলভিরা তখনও গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। যন্ত্রণায় আর ক্লান্তিতে মেয়েটা কখন যে ওই অবস্থাতেই ঘুমিয়ে পড়েছে, সে নিজেও জানে না।Safe Motivation
আরসালান কনুইয়ে ভর দিয়ে উঠে বসল। দৃষ্টি স্থির হলো আলভিরার ওপর। হ্যান্ডকাফ দিয়ে হাত দুটো মাথার ওপরে বাঁধা থাকায় আলভিরার শরীরটা এক অপূর্ব ভঙ্গিতে বিছানায় ছড়িয়ে আছে। অবিন্যস্ত চুলগুলো কপালে আর গালে লেপ্টে আছে। ভোরের নরম আলোয় ফর্সা ত্বক যেন আরও বেশি উজ্জ্বল দেখাচ্ছে। আলভিরার ঠোঁট দুটো যন্ত্রণায় নীল হয়ে থাকলেও নিষ্পাপ মুখশ্রীতে এক মায়াবী সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে।
আরসালান মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাকিয়ে রইল। কাল রাতের সেই অবাধ্য বাঘিনী মেয়েটাকে এখন একদম এক শান্ত জলপরীর মতো লাগছে। মনে এক মুহূর্তের জন্য এক অজানা শিহরণ বয়ে গেল। আলভিরার এই সৌন্দর্য যেন আরসালানের দীর্ঘদিনের জমে থাকা পাথর-হৃদয়ে ফাটল ধরাতে চাইল। হাত বাড়িয়ে আলভিরার গালটা একটু ছুঁতে চাইল, কিন্তু মাঝপথেই হাতটা থমকে গেল।
নিজেকে সামলে নিল আরসালান। মনে মনে নিজেকে ধমক দিয়ে বলল, "না আরসালান! এ কেবল তোর একটা দাবার ঘুঁটি। এর প্রতি দুর্বল হওয়া মানে নিজের পরাজয় মেনে নেওয়া। এর বাবার ওপর তোর যে প্রতিশোধ, তার মাঝে কোনো মায়ার জায়গা নেই।"
আরসালান খুব সাবধানে ড্রয়ার থেকে চাবি বের করে আলভিরার হাতের হ্যান্ডকাফ দুটো খুলে দিল। স্টিলের ঘষায় আলভিরার কবজি দুটো লাল হয়ে ফুলে গেছে। আলতো করে আলভিরার হাত দুটো নিচে নামিয়ে দেয়, আলভিরা এতটাই ক্লান্ত ছিল যে কিছুই টের পেল না।
আরসালান দ্রুত উঠে ওয়াশরুমে চলে গেল। শাওয়ারের ঠান্ডা জলে নিজের ভেতরের অস্থিরতা কমানোর চেষ্টা করছে। তৈরি হয়ে যখন বের হলো, তখন পরনে দামী ব্ল্যাক স্যুট। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের টাই ঠিক করতে করতে আলভিরার প্রতিবিম্বের দিকে তাকায়। চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল।
ঘরের দরজা খোলার সময় বিড়বিড় করে বলল, "তোর রূপের মোহ আমাকে আটকাতে পারবে না, আলভিরা। তুই শুধু আমার প্রতিশোধের মাধ্যম, তার বেশি কিছু নোস।"
ঘর থেকে বেরিয়ে সজোরে দরজাটা টেনে দিল। জারা করিডোরে দাঁড়িয়ে ছিল, আরসালান তাকে কড়া গলায় নির্দেশ দিল, "ওকে জাগিয়ে দিও। আজ সারাদিন ওকে দিয়ে বাগানের সব কাজ করাবে। এক মুহূর্ত যেন ও শান্তিতে না থাকে।"
আরসালান গটগট করে নিচে নেমে গেল, মনের কোণে কোথাও যেন আলভিরার সেই বিধ্বস্ত আর মায়াবী মুখটা বারবার ভেসে উঠছে। বারবার নিজেকে বোঝাচ্ছিল—তাকে কঠোর হতে হবে, তাকে নিষ্ঠুর হতে হবে।
আলভিরা তখনো গভীর ঘুমে অবশ হয়ে পড়ে ছিল। জারা কোনো দয়া না দেখিয়ে চিৎকার করে ডাকতে থাকে।
আলভিরা ধড়ফড় করে উঠে বকে। শরীর ব্যথায় কুঁকড়ে যাচ্ছে , বিশেষ করে হ্যান্ডকাফের চাপে ফুলে যাওয়া কবজি দুটো নড়াচড়া করতেই যন্ত্রণার বিদ্যুৎ খেলে গেল।
জারা চুলের মুঠি ধরে বিছানা থেকে টেনে নিচে নামাল। " আরসালানের হুকুম, আজ সারাদিন তুই বাগানের কাঁটাওয়ালা গাছগুলো পরিষ্কার করবি। কোনো গ্লাভস পাবি না, খালি হাতে কাজ করবি। যদি এক ইঞ্চি জায়গা বাকি থাকে, তবে আজ রাতে তোর কপালে আরও কষ্ট আছে।"
জারা হিড়হিড় করে টেনে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নিয়ে এল।
অন্যদিকে, আরসালান তার বিশাল অফিসের ক্যাবিন রুমে বসে আছে। সামনে দামী ল্যাপটপ, পাশে জরুরি ফাইল—কিন্তু তার মন কোথাও বসছে না। বারবার ল্যাপটপে বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ চেক করছে।
স্ক্রিনে দেখল, রোদের মধ্যে আলভিরা খালি হাতে বাগানে কাজ করছে। গোলাপ গাছের কাঁটায় নরম আঙুলগুলো ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে, ফর্সা গাল দুটো রোদে লাল হয়ে গেছে। আরসালান দেখল জারা দূর থেকে দাঁড়িয়ে গালিগালাজ করছে।
আরসালান হাতে একটা পেন ঘুরাচ্ছে। মস্তিষ্কে বারবার আজকের ভোরের শান্ত মুখটা ভেসে উঠছে। নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করল, "ওকে কষ্ট দেওয়ার জন্যই তো আমি এখানে এনেছি। জারা যা করছে ঠিকই করছে।
কিন্তু তবুও, আলভিরার বিধ্বস্ত চেহারার কথা ভেবে আরসালানের বুকের ভেতরটা কেমন জানি খচখচ করে উঠল। একটা সিগারেট ধরায়, ধোঁয়া ছেড়ে নিজেকে বারবার মনে করাতে লাগল যে আলভিরা তার শত্রু। কিন্তু মনের এক কোণে এক বিষাক্ত টান অনুভব করছে, যা কিছুতেই স্বীকার করতে চাইছিল না।
_____
এদিকে জারা আরও অত্যাচার বাড়িয়ে দিল।
আলভিরা মনে মনে শপথ নিল—
"আরসালান শেখ, তুমি আমাকে ভেঙেছ, অপমান করেছ, পশুর মতো ব্যবহার করেছ। —সবকিছুর শোধ নেব। আমি তোমাদের পুরো সাম্রাজ্যকে সেভাবেই ছাই করে দেব। তোমাদের ধ্বংসের শুরু হবে আমার এই হাত দিয়েই।"
চলবে-
(গল্পটা শেয়ার করে দিও
গল্প কেমন লাগছে বলে যাবেন। সবাই রেসপন্স করবেন
কমেন্টস এ রেসপন্স না করলে বুঝবো আপনারা নেক্সট পর্ব আর চান না
ঘরটা ঘুটঘুটে অন্ধকার। কোনো আলো জ্বলছে না। আলভিরা হাঁপাচ্ছে, ভেজা চুলগুলো মুখে লেপ্টে আছে।
হঠাৎ করেই রুমের এক কোণ থেকে একটা লাইটারের শিখা জ্বলে উঠল। আগুনের সেই হালকা আলোয় দেখা গেল আরসালান একটা আরামকেদারায় বসে আছে। তার হাতে একটি জ্বলন্ত সিগারেট। সিগারেটের ধোঁয়া অন্ধকারের ভেতর কুণ্ডলী পাকিয়ে ওপরে উঠছে। আরসালান কোনো কথা বলছে না, শুধু স্থির দৃষ্টিতে আলভিরার দিকে তাকিয়ে আছে।
ঘরটা আবার অন্ধকারে ডুবে গেল, শুধু সিগারেটের অগ্রভাগটা আগুনের বিন্দুর মতো জ্বলছে। হঠাৎ আরসালান এক ঝটকায় আলভিরাকে কাছে টেনে নিল। আলভিরা তার শক্ত বুকের ওপর আছড়ে পড়ল। আরসালানের গায়ের সেই তামাক আর দামী পারফিউমের গন্ধ আলভিরার মাথা ঝিমঝিম করে তুলল।
চলবে~
#মাফিয়ার_অবাধ্য_আসক্তি_
#লেখিকা_ইনায়া_জারিশ_
#পর্ব৪
(প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য !)
(18+ আলার্ট, যাদের এমন গল্প পছন্দ না তারা এড়িয়ে চলবেন )
"পালানোর চেষ্টা করেছিস, তাই না?" আরসালান দাঁতে দাঁত চেপে বলল।
আরসালান আলভিরাকে একটা লোহার পিলারের কাছে নিয়ে গেল। আলভিরার দুই হাত মাথার ওপরে তুলে নিজের বেল্ট দিয়ে পিলারের সাথে শক্ত করে বেঁধে দিল। আলভিরা ছটফট করতে লাগল, "কী করছেন এটা? হাত খুলুন!
আরসালান কোনো উত্তর দিল না। ঘরের কোণ থেকে একটা লম্বা আইস-বক্স টেনে নিয়ে এল। ভেতর রাখা ছিল বড় বড় বরফের টুকরো। আরসালান একটা বড় বরফের খণ্ড তুলে নিয়ে আলভিরার ফর্সা পিঠের ওপর দিয়ে ঘষতে শুরু করe।
"উউহ্! মাগো!" আলভিরা ঠান্ডায় আর যন্ত্রণায় কঁকিয়ে উঠে। বরফ শীতল ছোঁয়া উষ্ণ ত্বকের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল, মনে হচ্ছে কেউ ধারালো ছুরি দিয়ে চামড়া চিরে ফেলছে।
আরসালান থামল না। বরফটা আলভিরার কাঁধ থেকে শুরু করে কোমরের ভাঁজ পর্যন্ত সজোরে ঘষতে লাগল। আলভিরার শরীর ঠান্ডায় নীল হয়ে আসছে, থরথর করে কাঁপছে। তোর মনে যে পালানোর আগুন জ্বলছিল, সেই আগুনটা আমি এভাবেই নিভিয়ে দেব।"
বরফের ঘর্ষণে আলভিরার শরীরের ড্রেসটা ভিজে একাকার হয়ে গেল।
আলভিরা আর সহ্য করতে না পেরে ডুকরে কেঁদে উঠে। কান্না আর গোঙানি অন্ধকার ঘরে প্রতিধ্বনিত হতে লাগল। আরসালান এবার আলভিরার সামনে এসে দাঁড়ায়। এক হাত দিয়ে আলভিরার ভেজা চুলগুলো পেছনে টেনে ধরে।
"তোর বাবা তোকে আমার হাতে তুলে দিয়েছে তিলে তিলে মরার জন্য। আর আমি সেই কাজটা খুব নিখুঁতভাবে করছি।
বলেই আরসালান বাকি বরফ জলটুকু আলভিরার পায়ের কাছে ঢেলে দিল। আলভিরা থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে নিস্তেজ হয়ে এল, কিন্তু হাত পিলারের সাথে বাঁধা থাকায় বসে পড়ার সুযোগও পেল না। আরসালান ঘরে আবার সিগারটা ধরায়। ধোঁয়ার আড়ালে নিষ্ঠুর চোখ দুটো আলভিরার অবশ হয়ে যাওয়া শরীরের ওপর দিয়ে ঘুরতে লাগল।
আলভিরাকে দেখে মনে বিন্দুমাত্র দয়া হলো না, বরং তার অসহায়ত্ব আরসালানের ভেতরের পশুটাকে আরও উসকে দিল।
আরসালানের নিষ্ঠুরতা যেন এক নতুন উন্মাদনায় রূপ নিল।, আরসালান ড্রয়ার থেকে একজোড়া চকচকে স্টিলের হ্যান্ডকাফ বের করল। ঝড়ের গতিতে আলভিরার কাছে গিয়ে দুই হাত টেনে ধরে।
আলভিরা কোনো বাধা দেওয়ার শক্তিটুকুও হারিয়ে ফেলেছে। আরসালান সজোরে আলভিরার দুই হাতে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে দিল খাটের ওপরের আটকে দিল। এখন আলভিরা খাটের ওপর চিত হয়ে শুয়ে থাকতে বাধ্য, দুই হাত মাথার ওপরে টানটান হয়ে বাঁধা।
হ্যান্ডকাফ আটকানোর পর আরসালান সোজা হয়ে দাঁড়ায়। চোখে এক পৈশাচিক তৃপ্তি। টেবিল থেকে মদের বোতল আর একটা গ্লাস তুলে নিল। খাটের পাশেই একটা সোফায় বসার বদলে সরাসরি আলভিরার পাশে বিছানায় আয়েশ করে বসে।
গ্লাসে কড়া হুইস্কি ঢেলে এক চুমুক দিল। আরসালান এক হাতে গ্লাস ধরে অন্য হাতে আলভিরার ফর্সা পেটের ওপর দিয়ে গ্লাসটা স্লাইড করতে লাগে। বরফ শীতল গ্লাসের স্পর্শে আলভিরার শরীরটা ধনুকের মতো বারবার বেঁকে উঠছে, কিন্তু হ্যান্ডকাফের কারণে নিজেকে সরাতে পারছে না আলভিরা।
"খুব তেজি ঘোড়া ছিলে তুমি,," আরসালান মাতাল গলায় হাসে। গ্লাসের বাকি মদটুকু আলভিরার গলার কাছে ঢেলে দিল। "এখন দেখো, আমার বিছানায় তুমি কতটা অসহায়। তোমার এই ছটফটানি দেখতে আমার মদের নেশার চেয়েও বেশি ভালো লাগছে।"
মদ খেতে খেতে আরসালানের চোখ দুটো ভারী হয়ে এল। গ্লাসটা একপাশে সরিয়ে রেখে ধপাস করে আলভিরার ঠিক পাশেই শুয়ে পড়ল। শরীরের বিশাল ভার আর আলভিরার কোমল শরীরের ওপর আছড়ে পড়ল। মাতাল অবস্থায় আরসালান তার এক হাত আলভিরার কোমরের ওপর সজোরে চেপে ধরল, যেন ঘুমের মধ্যেও সে শিকারকে হাতছাড়া করতে চায় না।
আলভিরা নিথর হয়ে পড়ে রইল। হাত দুটো মাথার ওপরে হ্যান্ডকাফে বন্দি, পাশে আরসালান মদের ঘোরে অঘোরে ঘুমাচ্ছে। জানলার বাইরে দিয়ে আসা চাঁদের আলোয় আলভিরার বিধ্বস্ত চেহারা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। যন্ত্রণায় চোখ বুজে রইল, গাল বেয়ে নোনা জল গড়িয়ে আরসালানের হাতের ওপর পড়ল—কিন্তু আরসালান তখন গভীর ঘুমে মগ্ন।
____
ভোরের আলো যখন জানলার পর্দা ভেদ করে ঘরে ঢুকল, তখন ঘরটা এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতায় আচ্ছন্ন। আরসালানের মদের নেশা কেটে গেছে। চোখ মেলে দেখল আলভিরা তখনও গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। যন্ত্রণায় আর ক্লান্তিতে মেয়েটা কখন যে ওই অবস্থাতেই ঘুমিয়ে পড়েছে, সে নিজেও জানে না।Safe Motivation
আরসালান কনুইয়ে ভর দিয়ে উঠে বসল। দৃষ্টি স্থির হলো আলভিরার ওপর। হ্যান্ডকাফ দিয়ে হাত দুটো মাথার ওপরে বাঁধা থাকায় আলভিরার শরীরটা এক অপূর্ব ভঙ্গিতে বিছানায় ছড়িয়ে আছে। অবিন্যস্ত চুলগুলো কপালে আর গালে লেপ্টে আছে। ভোরের নরম আলোয় ফর্সা ত্বক যেন আরও বেশি উজ্জ্বল দেখাচ্ছে। আলভিরার ঠোঁট দুটো যন্ত্রণায় নীল হয়ে থাকলেও নিষ্পাপ মুখশ্রীতে এক মায়াবী সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে।
আরসালান মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাকিয়ে রইল। কাল রাতের সেই অবাধ্য বাঘিনী মেয়েটাকে এখন একদম এক শান্ত জলপরীর মতো লাগছে। মনে এক মুহূর্তের জন্য এক অজানা শিহরণ বয়ে গেল। আলভিরার এই সৌন্দর্য যেন আরসালানের দীর্ঘদিনের জমে থাকা পাথর-হৃদয়ে ফাটল ধরাতে চাইল। হাত বাড়িয়ে আলভিরার গালটা একটু ছুঁতে চাইল, কিন্তু মাঝপথেই হাতটা থমকে গেল।
নিজেকে সামলে নিল আরসালান। মনে মনে নিজেকে ধমক দিয়ে বলল, "না আরসালান! এ কেবল তোর একটা দাবার ঘুঁটি। এর প্রতি দুর্বল হওয়া মানে নিজের পরাজয় মেনে নেওয়া। এর বাবার ওপর তোর যে প্রতিশোধ, তার মাঝে কোনো মায়ার জায়গা নেই।"
আরসালান খুব সাবধানে ড্রয়ার থেকে চাবি বের করে আলভিরার হাতের হ্যান্ডকাফ দুটো খুলে দিল। স্টিলের ঘষায় আলভিরার কবজি দুটো লাল হয়ে ফুলে গেছে। আলতো করে আলভিরার হাত দুটো নিচে নামিয়ে দেয়, আলভিরা এতটাই ক্লান্ত ছিল যে কিছুই টের পেল না।
আরসালান দ্রুত উঠে ওয়াশরুমে চলে গেল। শাওয়ারের ঠান্ডা জলে নিজের ভেতরের অস্থিরতা কমানোর চেষ্টা করছে। তৈরি হয়ে যখন বের হলো, তখন পরনে দামী ব্ল্যাক স্যুট। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের টাই ঠিক করতে করতে আলভিরার প্রতিবিম্বের দিকে তাকায়। চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল।
ঘরের দরজা খোলার সময় বিড়বিড় করে বলল, "তোর রূপের মোহ আমাকে আটকাতে পারবে না, আলভিরা। তুই শুধু আমার প্রতিশোধের মাধ্যম, তার বেশি কিছু নোস।"
ঘর থেকে বেরিয়ে সজোরে দরজাটা টেনে দিল। জারা করিডোরে দাঁড়িয়ে ছিল, আরসালান তাকে কড়া গলায় নির্দেশ দিল, "ওকে জাগিয়ে দিও। আজ সারাদিন ওকে দিয়ে বাগানের সব কাজ করাবে। এক মুহূর্ত যেন ও শান্তিতে না থাকে।"
আরসালান গটগট করে নিচে নেমে গেল, মনের কোণে কোথাও যেন আলভিরার সেই বিধ্বস্ত আর মায়াবী মুখটা বারবার ভেসে উঠছে। বারবার নিজেকে বোঝাচ্ছিল—তাকে কঠোর হতে হবে, তাকে নিষ্ঠুর হতে হবে।
আলভিরা তখনো গভীর ঘুমে অবশ হয়ে পড়ে ছিল। জারা কোনো দয়া না দেখিয়ে চিৎকার করে ডাকতে থাকে।
আলভিরা ধড়ফড় করে উঠে বকে। শরীর ব্যথায় কুঁকড়ে যাচ্ছে , বিশেষ করে হ্যান্ডকাফের চাপে ফুলে যাওয়া কবজি দুটো নড়াচড়া করতেই যন্ত্রণার বিদ্যুৎ খেলে গেল।
জারা চুলের মুঠি ধরে বিছানা থেকে টেনে নিচে নামাল। " আরসালানের হুকুম, আজ সারাদিন তুই বাগানের কাঁটাওয়ালা গাছগুলো পরিষ্কার করবি। কোনো গ্লাভস পাবি না, খালি হাতে কাজ করবি। যদি এক ইঞ্চি জায়গা বাকি থাকে, তবে আজ রাতে তোর কপালে আরও কষ্ট আছে।"
জারা হিড়হিড় করে টেনে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নিয়ে এল।
অন্যদিকে, আরসালান তার বিশাল অফিসের ক্যাবিন রুমে বসে আছে। সামনে দামী ল্যাপটপ, পাশে জরুরি ফাইল—কিন্তু তার মন কোথাও বসছে না। বারবার ল্যাপটপে বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ চেক করছে।
স্ক্রিনে দেখল, রোদের মধ্যে আলভিরা খালি হাতে বাগানে কাজ করছে। গোলাপ গাছের কাঁটায় নরম আঙুলগুলো ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে, ফর্সা গাল দুটো রোদে লাল হয়ে গেছে। আরসালান দেখল জারা দূর থেকে দাঁড়িয়ে গালিগালাজ করছে।
আরসালান হাতে একটা পেন ঘুরাচ্ছে। মস্তিষ্কে বারবার আজকের ভোরের শান্ত মুখটা ভেসে উঠছে। নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করল, "ওকে কষ্ট দেওয়ার জন্যই তো আমি এখানে এনেছি। জারা যা করছে ঠিকই করছে।
কিন্তু তবুও, আলভিরার বিধ্বস্ত চেহারার কথা ভেবে আরসালানের বুকের ভেতরটা কেমন জানি খচখচ করে উঠল। একটা সিগারেট ধরায়, ধোঁয়া ছেড়ে নিজেকে বারবার মনে করাতে লাগল যে আলভিরা তার শত্রু। কিন্তু মনের এক কোণে এক বিষাক্ত টান অনুভব করছে, যা কিছুতেই স্বীকার করতে চাইছিল না।
_____
এদিকে জারা আরও অত্যাচার বাড়িয়ে দিল।
আলভিরা মনে মনে শপথ নিল—
"আরসালান শেখ, তুমি আমাকে ভেঙেছ, অপমান করেছ, পশুর মতো ব্যবহার করেছ। —সবকিছুর শোধ নেব। আমি তোমাদের পুরো সাম্রাজ্যকে সেভাবেই ছাই করে দেব। তোমাদের ধ্বংসের শুরু হবে আমার এই হাত দিয়েই।"
চলবে-
(গল্পটা শেয়ার করে দিও
0 Comments