মাফিয়ার_অবাধ্য_আসক্তি- লেখিকা_ইনায়া_জারিশ-পর্ব_২

 মাফিয়ার_অবাধ্য_আসক্তি

প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য !)

(18+ আলার্ট, যাদের এমন গল্প পছন্দ না তারা এড়িয়ে চলবেন )


আরসালানের নির্দেশে আলভিরা কাঁপাকাঁপা হাতে ওয়াইনের বোতলটা তুলে নিল। তার চোখে পানি আর মুখে তীব্র ঘৃণা। গ্লাসে করে ওয়াইন এনে সার্ভ করতে থাকে। যখন জায়েদের গ্লাসে ওয়াইন ঢালতে সামনে এগিয়ে গেল, জায়েদ ইচ্ছাকৃতভাবে তার পা-টা আলভিরার হাঁটার পথে বাড়িয়ে দিল।

আলভিরা নিজেকে সামলাতে পারল না, হোঁচট খেয়ে সোফার দিকে ঝুঁকে পড়তেই জায়েদ সুযোগটা লুফে নেয়। এক ঝটকায় আলভিরার কোমরে হাত দিয়ে তাকে নিজের দিকে টেনে আনল। আলভিরা আর্তনাদ করে ওঠার আগেই জায়েদ তার কানের কাছে মুখ এনে বলে,



"আরে সামলে! কাজের লোক যখন হয়েইছ, তখন আমার সেবা করলে কি খুব ক্ষতি হবে?"

জায়েদ অত্যন্ত অসভ্যভাবে আলভিরার কোমরে শক্ত করে চাপ দিল এবং তার অন্য হাতটা আলভিরার উরুর দিকে নিতে চাইল। আলভিরা এবার ঝাড়া মেরে উঠে দাঁড়ায়।

"কিরে আরসালান, তোর এই কাজের লোকটা তো বেশ ছটফটে। একে তো একটু ট্রেনিং দেওয়া দরকার, কি বলিস?"

বলেই হাসতে থাকে ! আলভিরা উপরে চলে যায় এসব তার সহ্য হচ্ছে না।
সোফায় বসে থাকা সেই মেয়েটি, জারা, এতক্ষণ ধরে বেশ উপভোগ করছিল। জারাকে আর জায়েদ কে সব জানায় আরসালান কেন আলভিরাকে এখানে এনেছে।

এরপর জারা উপরে চলে আসে।

আলভিরার দিকে এক তাচ্ছিল্যের দৃষ্টি ছুড়ে দিল। তারপর পাশে রাখা একটা শপিং ব্যাগ থেকে অত্যন্ত অশালীন একটা পোশাক বের করে। পোশাকটা এতটাই পাতলা যে, সেটাকে পোশাক না বলে শরীর প্রদর্শনের একটা মাধ্যম বলাই ভালো—ঠিক যেমনটা ক্লাবে নাচের মেয়েরা পরে।

জারা পোশাকটা আলভিরার মুখের সামনে ছুড়ে দিয়ে বলল, "শুনলাম তো তুমি নাকি আরসালানের পার্সোনাল কাজের লোক? তা আরসালানের মতো মানুষের সেবা করতে হলে তো শুধু ঘর মুছলে হবে না। আমাদের বিনোদন দেওয়াও তোমার কাজের অংশ।"

আলভিরা পোশাকটার দিকে তাকিয়ে ঘৃণায় চোখ সরিয়ে নিল। জারা এবার আরসালানের দিকে তাকিয়ে কুটিল হেসে বলল, "কী বলো আরসালান? মুড ঠিক করতে হলে এই মেয়েটাকে এই ড্রেসটা পরিয়ে একটু নাচতে বলো না! আমরাও দেখি তোমার নতুন 'কালেকশন' কতটা দক্ষ।"

আলভিরার বুক কাঁপছে। আরসালানের নগণ্য পোশাকটার দিকে একবার তাকায়, তারপর আলভিরার চোখের দিকে।

আরসালান খুব ধীরস্থিরভাবে পকেট থেকে একটা লাইটার বের করল। লাইটারটা জ্বালিয়ে আগুনের শিখাটার দিকে তাকিয়ে বলে, "জারা ঠিকই বলেছে, আমার মেহমানদের বিনোদন দেওয়াও তোমার কর্তব্যের মাঝে পড়ে। পোশাকটা হাতে নাও।"

আলভিরা ডুকরে কেঁদে উঠল, আপনি যা খুশি করুন, কিন্তু আমাকে সবার সামনে এভাবে নিচে নামাবেন না। আরসালান যেন কথাটা শুনতেই পেল না। "দশ মিনিট সময় দিলাম। এই পোশাকটা পরে নিচে হলরুমে আসবি। আর যদি না আসিস তবে মনে রাখবি—অস্ট্রেলিয়ায় তোর ভাইয়ের হদিস কিন্তু একমাত্র আমিই জানি। তার আয়ু প্রতি সেকেন্ডে কমছে।"

আলভিরা পাথর হয়ে গেল। ভাইয়ার জীবনের কথা শুনে তার সব প্রতিবাদ থেমে গেল। থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে মেঝে থেকে পোশাকটা তুলে নেয়। জারা খিলখিল করে হেসে উঠল, "গুড গার্ল! যাও, জলদি তৈরি হয়ে এসো। #নতুন #story #love #গল্প #রোমান্টিক #foryourpage #foryouシ #love

আলভিরা হাতের পাতলা পোশাকটার দিকে তাকাল। ঘৃণা তার সারা শরীর রি রি করে দিলেও সে নিজেকে শান্ত করে। বিড়বিড় করে নিজেকেই বলল—

"তোমরা আমাকে ভেঙে ফেলতে চেয়েছিলে তো? ভেবেছিলে অপমান করলে আমি শেষ হয়ে যাব? না। আজ থেকে আলভিরা মরল, জন্ম নিল এক নতুন প্রতিপক্ষ। আরসালান শেখ, তুমি আমাকে পণ করে কিনেছ, কিন্তু এই পণই একদিন তোমার পতনের কারণ হবে। আমি তোমার এই সাম্রাজ্য তাসের ঘরের মতো গুঁড়িয়ে দেব। ভাইয়াকে মুক্ত করব আর তোমাদের প্রত্যেককে এই অপমানের চড়া সুদ গুনতে হবে।"

শুধু আবেগ দিয়ে এদের সাথে লড়া যাবে না। এদের নিজের জালেই এদেরকে ফাঁসাতে হবে। আলভিরা খুব সাবধানে সেই পোশাকটা পরতে শুরু করে। জানে, এই পোশাকে তাকে নিচে যেতে হবে, কিন্তু এটাকে তার পরাজয় নয়, বরং তার যুদ্ধের প্রথম চাল হিসেবে নিল।

চুলগুলো খুলে দিল। চোখে কিছুটা ডার্ক কাজল মেখে নিল যাতে তার চোখের ভেতরের ক্রোধ আড়াল হয়ে এক মায়াবী হাতছানি তৈরি হয়। আয়নার দিকে তাকিয়ে একটা বাঁকা হাসি হাসল।

"যদি আমাকে নর্তকীই বানাতে চাও আরসালান, তবে তাই সই। কিন্তু মনে রেখো, বিষধর সাপের নাচ কিন্তু শেষ হয় ছোবল দিয়েই!"

পোশাকের ভেতরে খুব ছোট্ট একটা ধারালো ফলের ছুরি লুকিয়ে ফেলল, যা ঘর থেকে খুঁজে পেয়েছিল। তারপর ধীরস্থির পায়ে ঘরের বাইরে বেরিয়ে এল।আলভিরা যখন সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছে তখন তার মনে হচ্ছিল নিজের কবরের দিকে যাচ্ছে। আজ রাতে সিডনির এই প্রাসাদে আলভিরার আত্মসম্মানকে ছিঁড়ে কুটি কুটি করার সব আয়োজন সম্পন্ন।

নিচে তখন মিউজিক বাজতে শুরু করেছে। জারা আর আরসালান সোফায় বসে অপেক্ষা করছে। আলভিরা যখন সিঁড়ির মাথায় এসে দাঁড়াল, নিচের হলের আলোগুলো যেন তাকে দেখে থমকে গেল। ওই অশালীন পোশাকেও তাকে দেখতে কোনো সাধারণ বার ড্যান্সার এর মতো লাগছে না, বরং যেন এক বিধ্বংসী আগ্নেয়গিরি, যা যে কোনো সময় ফেটে পড়বে।

আরসালান গ্লাসে চুমুক দিতে গিয়েও থেমে গেল। আলভিরার চোখের সেই নতুন তেজ আর বদলে যাওয়া ভঙ্গি তাকে কিছুটা অবাক করল। বুঝতে পারল না, আলভিরা কি হার মেনে নিয়েছে, নাকি বড় কোনো চাল চালছে।নতুন গল্প পেতে Safe Motivation) ফলো করে রাখুন।

আলভিরা নিচে নেমে এল। পরনে সেই অতি ক্ষুদ্র পোশাক, কিন্তু তার ওপর একটা পাতলা জালি জড়ানো কেপ পরে নিয়েছে। সবথেকে বড় আকর্ষণ হলো তার মুখ। আরব্য স্টাইলে নাক, মুখ একটা রেশমি পর্দা দিয়ে ঢাকা, শুধু চোখ দুটো দেখা যাচ্ছে—যে চোখ দুটো আজ কোনো অসহায় মেয়ের নয়, বরং এক শিকারি বাঘিনীর মতো জ্বলছে।

হলের কোলাহল এক নিমেষে থেমে গেল। আরসালান সোফায় বসে ছিল, পাশে জারা এবং আরও কয়েকজন শক্তিশালী মাফিয়া সদস্য। আলভিরাকে এই রূপে দেখে আরসালান হাতের গ্লাসটা শক্ত করে চেপে ধরল। আশা করেছিল আলভিরা লজ্জা আর অপমানে কুঁকড়ে থাকবে, কিন্তু আলভিরা এখন এক রহস্যময়ী প্রতিপক্ষ ন্যায়।

জারা রাগে ফুঁসে উঠে বলল, "ও মুখ ঢেকেছে কেন? আরসালান, ওকে পর্দা সরাতে বলো! আমরা ওর মুখ দেখতে চাই।"

আরসালান কোনো উত্তর দিল না। তীক্ষ্ণ দৃষ্টি আলভিরার চোখের দিকে স্থির। আলভিরা সরাসরি আরসালানের চোখের দিকে তাকিয়ে মিউজিকের তালে তালে খুব ধীর লয়ে নাচতে শুরু করে। শরীরে সেই পাতলা জালি আর মুখের পর্দা তাকে এক অপার্থিব সৌন্দর্য দিচ্ছিল।

নাচতে নাচতে আলভিরা প্রতিটি ছেলের খুব কাছে যাচ্ছে, কিন্তু কেউ তাকে স্পর্শ করার সাহস পাচ্ছে না। নাচের প্রতিটা মুভমেন্টে ছিল এক অদ্ভুত অবজ্ঞা। সে জায়েদের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় তার চোখে এক মুহূর্তের জন্য আগুন ঝরিয়ে দিল, যা দেখে জায়েদ ভয় মিশ্রিত বিস্ময়ে পিছিয়ে গেল।

নাচতে নাচতে আলভিরা আরসালানের একদম সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। হাতের ছুরিটা সেই পাতলা পোশাকের ভেতরে লুকানো। আরসালানের দিকে ঝুঁকে পড়ল। আরসালান তখনো শান্ত, কিন্তু তার নিঃশ্বাস ভারী হয়ে আসছে।

আলভিরা আরসালানের কানের কাছে মুখ নিয়ে গেল। পর্দার আড়াল থেকে তপ্ত নিঃশ্বাস আরসালানের গলায় বিঁধল। সে খুব নিচু স্বরে বলল—

"আপনার মেহমানরা আজ শুধু আমার নাচ দেখছে আরসালান সাহেব। কিন্তু আমি আপনার পরাজয়ের শুরুটা দেখছি। আজ রাতে আমি আপনার থেকে চুরি করব, আর আপনি সেটা বুঝতেও পারবেন না।"

কথাটা বলেই আলভিরা আবার নাচের ছলে সরে গেল। আরসালান লক্ষ্য করল, আলভিরা যখন তার পাশ দিয়ে সরে গেছে, তখন আরসালানের জ্যাকেটের পকেটে রাখা তার এনক্রিপ্টেড ফোনের লক খোলার জন্য যে আঙুলের ছাপ (fingerprint scan) দরকার ছিল, আলভিরা কৌশলে তার হাতে নিজের হাত ঘষে সেই ছাপ নেওয়ার চেষ্টা করেছ।

আরসালান মনে মনে হাসল। বুঝতে পেরেছে আলভিরা এখন শিকার থেকে শিকারি হওয়ার চেষ্টা করছে। বিড়বিড় করে বলল, "খেলাটা তো এবার জমবে, আলভিরা।"

মিউজিকের তাল যখন দ্রুত হতে শুরু করল, আলভিরার শরীরের প্রতিটি ভঙ্গি যেন আগুনের ফুলকি হয়ে ছড়িয়ে পড়ল। পুরো হলরুমের পরিবেশ এক লহমায় বদলে গেল। আলভিরার নাচের মুদ্রায় এখন আর কোনো জড়তা নেই, বরং সেখানে মিশে আছে এক তীব্র দহন। আরব্য স্টাইলের সেই মাস্কের ওপর দিয়ে তার চোখ দুটো যেন বিদ্যুৎ চমকাচ্ছিল।

হলরুমের নীলচে আলো ফিনফিনে পাতলা পোশাকের ওপর পড়ছে, তখন মনে হচ্ছিল শরীর থেকে এক অদৃশ্য তেজ বের হচ্ছে। আলভিরা যখন লাটিমের মতো ঘুরতে শুরু করল, খোলা চুল আর ওড়নার ঝাপটা হলরুমের বাতাসে এক মায়াবী সম্মোহন তৈরি করল যেন।

সেখানে উপস্থিত সবাই বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে তাকিয়ে আছে। যাদের হাতে ওয়াইনের গ্লাস ছিল, তাদের হাত মাঝপথে থেমে গেছে; যারা ফিসফিস করে কথা বলছিল, তাদের মুখ স্তব্ধ হয়ে গেছে। সবাই যেন এক মোহিনী শক্তির মায়াজালে বন্দি। আলভিরার নাচের প্রতিটি ছন্দ এতই নিখুঁত আর তেজস্বী ছিল যে, উপস্থিত অতিথিদের মনে হচ্ছিল তাদের চারপাশটা যেন ঝলসানো রোদে পুড়ে যাচ্ছে।

আরসালান শেখ, যে সবসময় পাথরের মতো শান্ত থাকে, সে-ও এখন সোফায় সোজা হয়ে বসেছে। তার চোখে এখন আর অবজ্ঞা নেই, বরং এক আদিম বিস্ময়। দেখছে, যে মেয়েটিকে সে 'কাজের লোক' বলে অপদস্থ করেছিল, সেই মেয়েটিই এখন পুরো আসরের ওপর আধিপত্য বিস্তার করছে।

জায়েদ এবং অন্য যুবকরা লোলুপ দৃষ্টিতে তাকাতে চেয়েও বারবার চোখ সরিয়ে নিচ্ছিল। আলভিরার চোখের সেই অগ্নিঝরা দৃষ্টির সামনে কেউ হাত বাড়ানোর সাহস পাচ্ছিল না। আলভিরার প্রতিটি পদক্ষেপ যেন একটা নিরব গর্জন—"তোমরা আমাকে ভেঙে ফেলতে চেয়েছিলে, কিন্তু দেখো—আমি পুড়ে ছাই হয়ে যাইনি, বরং আমিই এখন আগ্নেয়গিরি!"

নাচের মাঝপথে আলভিরা একবার আরসালানের একদম গা ঘেঁষে চলে গেল। তার শরীরের সেই নেশা ধরানো সুগন্ধ আরসালানের মস্তিষ্কে এক অদ্ভুত উন্মাদনা তৈরি করে দিল যেন । সবাই যখন তার রূপে আর নাচে বুঁদ হয়ে আছে, আলভিরা তখন চোখের কোণ দিয়ে হলের প্রতিটি প্রস্থান পথ (exit point) আর গার্ডদের অবস্থান মেপে নিচ্ছে। সে বুঝতে পেরেছে, তার এই সম্মোহনী নাচ সবাইকে ঘোরের মধ্যে ফেলে দিয়েছে—আর এটাই হলো তার পরিকল্পনা কার্যকর করার সেরা সময়। নতুন গল্প পেতে Safe Motivation) ফলো করে রাখুন।

হঠাৎ করেই মিউজিকটা কর্কশ শব্দে বন্ধ হয়ে গেল। আলভিরা একটা চক্কর দিয়ে থামতেই দেখল আরসালান তার একদম সামনে দাঁড়িয়ে। আরসালানের চোয়াল শক্ত, চোখ দুটো অন্ধকার নেশায় আচ্ছন্ন। কোনো কথা না বলে আরসালান সবার সামনেই আলভিরার একটা হাত সজোরে মুচড়ে ধরল।

"নাচ শেষ হয়েছে। এবার বিশ্রামের পালা," আরসালান গম্ভীর গলায় বলল। কন্ঠস্বর এতটাই শীতল যে হলরুমের কোলাহল এক নিমেষে নিভে গেল।

জারা পাশ থেকে চিৎকার করে উঠল, "আরে আরসালান! মাঝপথে থামিয়ে দিলে কেন? আমরা তো মজা পাচ্ছিলাম!"

আরসালান জারার দিকে ফিরেও তাকাল না। আলভিরাকে এক প্রকার হ্যাঁচকা টান দিয়ে সিঁড়ির দিকে নিয়ে যেতে লাগল। আলভিরা নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করছিল, কিন্তু আরসালানের লোহার মতো শক্ত হাতের সামনে সে অসহায়।

"ছাড়ুন আমাকে! আপনিই তো চেয়েছিলেন আমি সবার সামনে নাচি, এখন আবার এমন করছেন কেন?" আলভিরা রাগে আর যন্ত্রণায় বলে।
আরসালান কোনো উত্তর দিল না। আলভিরাকে পাঁজাকোলা করে তুলে নিল। উপস্থিত অতিথিদের ভিড় চিরে সে যখন আলভিরাকে নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠতে লাগে।

উপরে উঠে নিজের বিশাল বেডরুমে ঢুকে আরসালান লাথি দিয়ে দরজাটা বন্ধ করে দিল। তারপর আলভিরাকে বিছানার ওপর এক প্রকার ছুড়ে ফেলল। আলভিরা তড়িঘড়ি করে উঠে বসতে চাইল, কিন্তু আরসালান তার দুই পাশে হাত রেখে বিছানায় চেপে ধরে।

"তুই খুব বেশি উড়ছিলি তাই না,?" আরসালানের তপ্ত নিঃশ্বাস আলভিরার সেই মুখঢাকা পর্দার ওপর দিয়ে তাকে স্পর্শ করল। "ভেবেছিলে ওই পোশাকে সবার সামনে কোমর দুলিয়ে আমাকে জব্দ করবে? তুমি জানো না—তুমি যত বেশি অবাধ্য হবে, আমি তোমাকে ঠিক ততটাই নিষ্ঠুরভাবে নিজের করে নেব।"

আলভিরা আরসালানের চোখের দিকে তাকিয়ে একটা রহস্যময় হাসি হাসল। পর্দাটা নিজের হাতে সরিয়ে দিল। ঠোঁটের সেই বাঁকা হাসিতে ছিল জয়ের আভাস।

"আমি তো শুধু আপনার হুকুম পালন করছিলাম, আরসালান সাহেব। কিন্তু আপনার এই অস্থিরতা দেখে তো মনে হচ্ছে—শিকারি নিজেই তার শিকারের প্রেমে পড়ে গেছে।"

আরসালান এক মুহূর্ত থমকে গেল। আলভিরার গলার কাছে ঝুলে থাকা সেই ছোট্ট ছুরিটার হাতল দেখতে পেল, যা সে পোশাকের নিচে লুকিয়ে রেখেছিল। আরসালান বুঝতে পারল, আলভিরা নিচে শুধু নাচতে যায়নি, সে তাকে মারার বা এখান থেকে পালানোর জন্য তৈরি হয়েই গিয়েছিল।
আরসালান আলভিরার গলার কাছে মুখ নিয়ে আসতেই, আলভিরা চোখের পলকে তার পোশাকের নিচে লুকিয়ে রাখা সেই ধারালো ছুরিটা বের করে আনল। আরসালান কিছু বুঝে ওঠার আগেই আলভিরা তার শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে আরসালানকে উল্টে দিল এবং বিদ্যুৎগতিতে ছুরিটা আরসালানের গলায় চেপে ধরল।

আরসালান বিছানায় পিঠ ঠেকিয়ে শুয়ে আছে, আর আলভিরা তার বুকের ওপর চড়ে বসে গলার ঠিক মাঝখানে ছুরির অগ্রভাগটা বসিয়ে দিয়েছে। সামান্য নড়াচড়া করলেই সপাৎ করে কেটে যাবে ধমনী।

"এক পা-ও নড়বেন না আরসালান শেখ!" আলভিরার কণ্ঠস্বর এখন বরফের মতো শীতল। "আপনার একটা চিৎকার বা একটা ইশারা আপনার শেষ নিঃশ্বাস হতে পারে।"

আরসালান থমকে গেল। চোখে বিস্ময়, কিন্তু ভয়ের ছিটেফোঁটাও নেই। অপলক দৃষ্টিতে আলভিরার দিকে তাকিয়ে রইল। আলভিরার চুলগুলো অবিন্যস্তভাবে তার মুখে এসে পড়ছে, আর চোখের সেই আগুন এখন আরসালানকে দগ্ধ করছে।

"বাহ!" আরসালান খুব নিচু স্বরে হাসল। "বুনো বিড়ালটা দেখি নখ বের করতে শিখে গেছে। তা, এই ছুরি দিয়ে কী করার ইচ্ছা? আমাকে মেরে ফেলবে? মেরে ফেললে এই প্রাসাদ থেকে বের হতে পারবে তো?"

"আপনার জীবনের মায়া আমার নেই, আরসালান সাহেব," আলভিরা ছুরিটা আরও একটু চেপে ধরে, আরসালানের গলায় হালকা রক্তের রেখা ফুটে উঠল। "আমার শুধু একটা জিনিস চাই। আমার ভাই। আমার বড় ভাইয়া কোথায়? এখনই বলুন, নইলে কসম খেয়ে বলছি—সিডনির এই মাফিয়া ডনের লাশ আজ এই ঘরেই পড়ে থাকবে।"

আরসালান গলার ক্ষতটা অনুভব করল, কিন্তু ঠোঁটের কোণে একটা রহস্যময় হাসি ফুটে উঠল। সে আলভিরার কোমরে আলতো করে হাত রাখল। আলভিরা চমকে উঠে ছুরিটা আরও শক্ত করল।

"হাত সরান! আপনার সাহস কী করে হয় আমাকে ছোঁয়ার?"

"ভাইয়ের খবর চাও তো?" আরসালান শান্ত গলায় বলল। "তাহলে শোনো। তোমার ভাই এখন মেলবোর্নের একটা গোপন ডেরায় আমার গার্ডদের পাহারায় আছে। সে সুস্থ আছে, তবে তার বেঁচে থাকাটা নির্ভর করছে তোমার ওপর। তুমি যদি আমাকে এখন মেরেই ফেলো, তবে আমার গার্ডরা নির্দেশ পেয়েই আরিয়ানকে শেষ করে দেবে। তুমি কি সত্যিই তোমার ভাইয়ের মৃত্যু চাও, আলভিরা?"

আলভিরার হাত কেঁপে উঠল। চোখের কোণে আবার জল জমতে শুরু করে, কিন্তু নিজেকে সামলে নিল। "আপনি মিথ্যা বলছেন! আপনি শুধু নিজেকে বাঁচাতে চাইছেন।"

"আমি আরসালান শেখ, আমি কখনও নিজের প্রাণ বাঁচাতে মিথ্যা বলি না," আরসালান এবার আলভিরা যখন ভাইয়ের চিন্তায় সামান্য অন্যমনস্ক হয়ে ছুরির মুঠোটা হালকা করল, আরসালান ঠিক তখনই বিদ্যুতের গতিতে কবজিটা ধরে ফেলে। আলভিরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই আরসালান নিজের শরীরটাকে এক ঝটকায় ঘুরিয়ে দিল। আলভিরা আর্তনাদ করে ওঠার সময়ও পেল না, তার হাত থেকে ছুরিটা ছিটকে ঘরের কোণে গিয়ে পড়ল।

পরের মুহূর্তেই দৃশ্যপট বদলে গেল। এখন আরসালান আলভিরার ওপরে, আর আলভিরা বিছানায় তার নিচে পিষ্ট। আরসালান আলভিরার দুই হাত তার মাথার ওপর সজোরে চেপে ধরল, যাতে আর নড়াচড়া করতে না পারে।

"খুব সাহস বেড়ে গেছে তোর, তাই না?" আরসালান দাঁতে দাঁত চেপে বলল। গলার সেই হালকা কাটার দাগ থেকে কয়েক ফোঁটা রক্ত গড়িয়ে আলভিরার সাদা কাঁধে পড়ছে। "ভেবেছিলে এই খেলনা ছুরি দিয়ে আরসালান শেখকে জিম্মি করবে? তুমি বাঘের খাঁচায় ঢুকে বাঘকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছ, ।"

আলভিরা হাঁপাচ্ছে। বুকের ওঠানামা আরসালানের শরীরের সাথে ঘর্ষণ খাচ্ছে। তবুও হাল ছাড়ল না, চিৎকার করে বলল, "আপনি একটা জানোয়ার! আমাকে মেরে ফেলুন, কিন্তু আমার ভাইয়াকে ছেড়ে দিন।
আরসালান আলভিরার একদম মুখের কাছে মুখ নিয়ে এল। চোখের দৃষ্টি এখন আগুনের মতো উত্তপ্ত। , "এখনও অনেক কিছু বাকি আছে। আমি চেয়েছিলাম তুমি নিজের ইচ্ছায় আমার কাছে আত্মসমর্পণ করো, কিন্তু তুমি যুদ্ধের ভাষা বেশি ভালো বোঝো। ঠিক আছে, তবে যুদ্ধই সই।"

আরসালান তার এক হাত আলভিরার দুই হাত ধরে রাখার জন্য ব্যবহার করল এবং অন্য হাত দিয়ে আলভিরার গলার কাছে আঙুল চালাল। আলভিরা ঘৃণায় চোখ বন্ধ করে ফেলে

"তোমার ভাই বেঁচে থাকবে কি না, সেটা এখন তোমার আচরণের ওপর নির্ভর করছে," আরসালান তার ঠোঁট আলভিরার কানের কাছে নিয়ে গেল। "
আলভিরা বুঝতে পারল সে নিজের পাতা জালে নিজেই ফেঁসে গেছে। আরসালান তাকে ছাড়ল না, বরং তার বাঁধন আরও শক্ত করল।

ঘর অন্ধকার, কিন্তু জানলার ফাঁক দিয়ে আসা চাঁদের হালকা আলো আলভিরার ওপর এসে পড়েছে। আরসালান তাকে বিছানায় চেপে ধরে আছে, তার প্রতিটি পেশি টানটান। রাগ আর উত্তেজনার এক অদ্ভুত মিশ্রণ এখন তাদের মাঝে।
আরসালান আলভিরার চোখের দিকে তাকিয়ে পুরোপুরি স্থির করে ফেলল। তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ধীরে ধীরে আলভিরার শরীরের ওপর নামিয়ে আনল। ধস্তাধস্তির কারণে আলভিরার পাতলা পোশাকটি অবিন্যস্ত হয়ে পড়েছে। ধনুকের মতো বাঁকানো শরীরটি সেই মায়াবী আলোয় এক অপূর্ব ভাস্কর্যের মতো ফুটে উঠেছে। আলভিরার সুডৌল কোমর আর গভীর নাভির রেখা আরসালানের চোখে এক আদিম তৃষ্ণা জাগিয়ে তুলল।পোশাকের উপরিভাগ কিছুটা সরে যাওয়ায় আলভিরার বক্ষদেশের একাংশ স্পষ্ট দৃশ্যমান হয়ে পড়েছে। দ্রুত গতির নিশ্বাস আর বুক ওঠানামার দৃশ্যটি আরসালানের নিয়ন্ত্রণ যেন পুরোপুরি কেড়ে নিচ্ছিল। আলভিরার ফর্সা ত্বকের ওপর আরসালানের গলার সেই তাজা রক্ত ফোঁটা ফোঁটা করে পড়ছে, যা পরিবেশটাকে আরও বেশি বুনো আর বিষাক্ত করে তুলেছে যেন।
আরসালান আলভিরার শরীরের প্রতিটি ইঞ্চি তার দৃষ্টি দিয়ে স্ক্যান করতে লাগল। দেখল, অপমানের লাল ওয়াইনের দাগগুলো আর তার ফর্সা শরীরের উজ্জ্বলতা মিলেমিশে এক অদ্ভুত মাদকতা তৈরি করেছে। আলভিরা রাগে আর ঘৃণায় কাঁপছে, কিন্তু সেই কম্পন আরসালানের কাছে কেবল আরও বেশি উত্তেজনার কারণ হয়ে দাঁড়াল।
আরসালান তার এক হাত সরিয়ে আলভিরার উন্মুক্ত ত্বকের ওপর দিয়ে খুব ধীরে ধীরে আঙুল চালিয়ে নিল। হাতের সেই শক্ত ছোঁয়া আলভিরার শরীরে এক নতুন ধরণের অস্বস্তি আর শিহরণ জাগিয়ে তুলল।
আলভিরা নিজেকে মুক্ত করার জন্য শেষবারের মতো একটা চেষ্টা করল, এতে শরীরটা ধনুকের মতো একবার বেঁকে উঠল। কিন্তু সেই বাঁকানো শরীরে আরসালান নিজেকে আরও গভীর ভাবে চেপে ধরল। আলভিরার শরীরের উষ্ণতা আর তার মিষ্টি সুগন্ধ আরসালানের মস্তিষ্কে এক প্রকার ঘোর তৈরি করল—এক বিষাক্ত নেশা, যা থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো পথ আলভিরারও জানা নেই।

চলবে~

 🌺গল্পের সব গুলো পর্ব এক সাথে পেতে Safe Motivation গ্রুপে জয়েন হয়ে থাকুন।

Post a Comment

0 Comments