মাফিয়ার_অবাধ্য_আসক্তি
আরসালান হ্যাঁচকা টানে আলভিরার জামাটা ছিঁড়ে ফেলল, আলভিরা যন্ত্রণায় আর আতঙ্কে কুঁকড়ে গেল। শরীরের ওপরের অংশের পোশাকটা এখন ছিন্নভিন্ন হয়ে মেঝেতে পড়ে আছে। পরনে এখন কেবল অন্তর্বাসটুকু অবশিষ্ট। অপমানে আর লজ্জায় আলভিরা দিশেহারা হয়ে নিজের দুই হাত দিয়ে বুক ঢাকার আপ্রাণ চেষ্টা করছে। ফর্সা শরীরটা অনেকটাই দৃশ্যমান।
আরসালান ধীর পায়ে পাশের টেবিল থেকে একটি ওয়াইনের গ্লাস তুলে নিল। গ্লাসের লাল তরলটা আলোর নিচে রক্তাভ দেখাচ্ছিল।
আরসালান কোনো কথা না বলে আলভিরার মাথার ঠিক উপর থেকে গ্লাসটা কাত করল। ঠান্ডা লাল ওয়াইন আলভিরার ঘাড় আর বুকের ওপর দিয়ে গড়িয়ে পড়তে শুরু করল। আলভিরার দুধে-আলতা ফর্সা শরীরের লাল ওয়াইনটা ঢালতেই মুহূর্তে শরীরটা ভিজে একাকার হয়ে গেল। ভিজে যাওয়ার কারণে অন্তর্বাসটুকু শরীরের সাথে লেপ্টে গেল, যা আলভিরার অস্বস্তি আর অপমানকে আরও বাড়িয়ে দিল।আরসালান শূন্য গ্লাসটা দূরে ছুড়ে ফেলে দিল।
আলভিরার মনে তখন এক অদ্ভুত দ্বন্দ্ব। অপমানে তার গায়ের রক্ত টগবগ করে ফুটছে, চোখের দৃষ্টিতে একরাশ ঘৃণা আর আগুন—যদি পারত, তবে ওই দৃষ্টি দিয়েই হয়তো আরসালানকে ভস্ম করে দিত। কিন্তু তার শরীর অবশ, পরিস্থিতির কাছে সে চূড়ান্ত অসহায়। দুই হাত দিয়ে নিজেকে আড়াল করার শেষ চেষ্টাটুকুও যেন ব্যর্থ হতে চলেছে।
আরসালান আলভিরার চোখের সেই আগুন দেখল, কিন্তু তার ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল এক পৈশাচিক হাসি। সে আরও এক ধাপ এগিয়ে এল। আলভিরার ফর্সা বুকের ওপর দিয়ে গড়িয়ে পড়া লাল ওয়াইনগুলো তখনো চুইয়ে চুইয়ে পড়ছে।
আরসালান নিচু হয়ে আলভিরার একদম কাছাকাছি চলে এল। তপ্ত নিঃশ্বাস আলভিরার ভিজে যাওয়া চামড়ায় কাঁপুনি ধরিয়ে দিচ্ছে। আলভিরা মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতেই আরসালান শক্ত হাতে চিবুক চেপে ধরল। তারপর অত্যন্ত নির্দয়ভাবে, আলভিরার বুক থেকে গড়িয়ে পড়া সেই ওয়াইনটুকু নিজের জিহ্বা দিয়ে লেহন করে নিতে লাগল।
আলভিরা ঘৃণায় চোখ বন্ধ করে ফেলে। ফর্সা শরীরে আরসালানের জিহ্বার স্পর্শ যেন আগুনের ছ্যাঁকার মতো লাগছিল। বুঝতে পারছে, এই লোকটা শুধু তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করছে না, বরং তার আত্মসম্মানকে তিল তিল করে চিবিয়ে খাচ্ছে। আরসালান তৃপ্তির সাথে ওয়াইনটুকু চেটে নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াল, আলভিরার ঠোঁটের খুব কাছে মুখ নিয়ে এসে বলল -
"স্বাদটা মন্দ না, । তবে তোর চোখের এই আগুনটা আমার খুব পছন্দ হয়েছে। দেখি, কতক্ষণ এই তেজ ধরে রাখতে পারিস।"
আরসালান আলভিরার চুলের মুঠিটা হালকা করে ধরে নিজের দিকে টেনে আনল। হা হা " অসহায় গোলাপ"! বলেই সেখান থেকে উঠে চলে গেল।
ফ্ল্যাশবুক: #নতুন #story #গল্প #রোমান্টিক #foryourpage #foryouシ #love #loveisloveislove
অস্ট্রেলিয়ার সিডনির মনোরম সমুদ্র সৈকতের পাশে আলভিরাদের বিশাল ম্যানশন। কিন্তু আজ বাড়ির পরিবেশটা গুমোট। আলভিরার বাবা শওকত সাহেব সোফায় মাথা নিচু করে বসে আছেন, তার চোখমুখ বসে গেছে। আলভিরা ঘরে ঢুকেই অবাক হয়ে দেখল তার বাবার এমন বিধ্বস্ত দশা।
"বাবা! কী হয়েছে তোমার? বড় ভাইয়া কোথায়? ওর ফোন কেন বন্ধ?" আলভিরা উদ্বিগ্ন গলায় জানতে চাইল।
শওকত সাহেব কেঁপে উঠলেন। তিনি ভেজা গলায় বললেন, "সব শেষ হয়ে গেছে মা। আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে।"
আলভিরা কিংকর্তব্যবিমূড় হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। শওকত সাহেব বলে চললেন, "আরসালান শেখ... নাম শুনেছিস নিশ্চয়ই? ওই মাফিয়া ডন আমাদের পিছু লেগেছে। অস্ট্রেলিয়ার আমাদের যতগুলো টেক্সটাইল কারখানা ছিল, সবগুলোতে ও ষড়যন্ত্র করে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। কাঁচামাল আসছে না, শ্রমিকরা বেতন না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে। রাস্তায় নামলে তারা আমাকে ছিঁড়ে ফেলবে।"
আলভিরার বুকটা কেঁপে উঠল। সে কাঁপা গলায় বলল, "কিন্তু ভাইয়া? ও কোথায়?"
"তোর ভাইকে ওরা তুলে নিয়ে গেছে," শওকত সাহেব কান্নায় ভেঙে পড়লেন। "আরিয়ান ওরফে আরসালান শেখ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যদি আমি আমার ব্যবসা, নিজের সম্মান আর তোর ভাইয়ের প্রাণ ফিরে পেতে চাই... তবে তোকে ওর হাতে তুলে দিতে হবে। তোকে ওকে বিয়ে করতে হবে।"
আলভিরা বিশ্বাস করতে পারছিল না। "বিয়ে? ও তো একজন অপরাধী! তুমি আমাকে একটা জানোয়ারের হাতে তুলে দেবে?"
"আমার কাছে আর কোনো রাস্তা নেই মা," শওকত সাহেব আলভিরার হাত ধরে আকুতি করলেন। "ও পুরো অস্ট্রেলিয়ায় আমাদের তিলে তিলে গড়া সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দিচ্ছে। তুই না গেলে তোর ভাইয়া ফিরবে না, আর আমাদের কালই রাস্তায় গিয়ে দাঁড়াতে হবে।"
সেই মুহূর্তেই আলভিরা বুঝে গিয়েছিল, তার বাবার ব্যবসার লাভ-ক্ষতির খতিয়ানে সে কেবল একটা পণ মাত্র। সেই রাতের ঘৃণা আর আজকের আরসালানের নিষ্ঠুরতা যেন এক সুতোয় গেঁথে গেল।
বতর্মান -নতুন গল্প পেতে Safe Motivation) ফলো করে রাখুন।
আরসালান ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আগে দরজার কাছে দাঁড়িয়ে একবার পেছন ফিরে তাকাল। আলভিরা তখনো মেঝেতে বসে নিজের হাত দিয়ে বিধ্বস্ত শরীরটা ঢেকে রাখার চেষ্টা করছে। তার গলার কাছে লাল ওয়াইনগুলো শুকিয়ে আঠা হয়ে যাচ্ছে।
"এই ঘরে আলমারিতে তোমার জন্য কিছু নতুন পোশাক রাখা আছে," আরসালান গম্ভীর গলায় বলল। "দশ মিনিটের মধ্যে তৈরি হয়ে নিচে আয়।
নিচতলায় নামতেই আলভিরা দেখল বিশাল লিভিং রুমে দুই জন সুঠামদেহী যুবক এবং একটি অত্যন্ত সুন্দরী মেয়ে বসে আছে। মেয়েটির পরনে দামী পশ্চিমা পোশাক, চোখেমুখে অহংকারের ছাপ।
আরসালান গিয়ে একক সোফাটায় আধশোয়া হয়ে বসে আছে যেন সে এই রাজ্যের একচ্ছত্র সম্রাট। বাকি দুই যুবকের মধ্যে একজন, যার নাম জায়েদ, আলভিরাকে দেখামাত্রই তার চোখের দৃষ্টি বদলে ফেলল। সোফায় হেলান দিয়ে বসে আলভিরার পা থেকে মাথা অবধি অত্যন্ত নির্লজ্জভাবে স্ক্যান করতে লাগল। তার লোলুপ দৃষ্টি আলভিরার ভেলভেট গাউনের ভেতর দিয়ে যেন তার শরীরকে ছিঁড়ে খেতে চাইছে।
আলভিরা এই দৃষ্টিতে অভ্যস্ত নয়, সে অস্বস্তিতে কুঁকড়ে যাচ্ছিল। ঠিক তখনই সোফায় বসা মেয়েটি ভ্রু কুঁচকে আরসালানের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করল, "আরসালান, কে এই মেয়ে? এরকম একটা মেয়েকে তো আগে কখনও দেখিনি
আরসালান তার হাতে থাকা ওয়াইনের গ্লাসে একটা চুমুক দিয়ে সাথে বলল—
"ও আমার নতুন কাজের লোক। আজকের ডিনারের পর থেকে এই প্রাসাদের ধুলোবালি পরিষ্কার করাই ওর কাজ।
কথাটা শোনার সাথে সাথে আলভিরার মনে হলো কেউ তার কানে তপ্ত সিসা ঢেলে দিল।
জায়েদ এবার একটা শয়তানি হাসি দিয়ে বলল, "বাহ আরসালান! তোমার রুচি তো দারুণ। সিডনির বাজারে কি ইদানীং এত সুন্দরী কাজের লোক পাওয়া যায়? তোমার যদি আপত্তি না থাকে, তবে কিছুদিন পর ওকে আমার ভিলাতেও একবার পাঠাতে পারো। আমার ওখানেও কিছু 'পরিষ্কার' করার কাজ আছে।"
আরসালান জায়েদের কথার কোনো প্রতিবাদ করল না,। আলভিরা অপমানে আর রাগে কাঁপতে কাঁপতে আরসালানের দিকে তাকাল। তার চোখের সেই আগুন দেখে আরসালান ইশারায় তাকে কাছে ডাকল।
"দাঁড়িয়ে আছিস কেন,।যা, মেহমানদের গ্লাসে ওয়াইন ঢেলে দে।
মাফিয়ার_অবাধ্য_আসক্তি
লেখিকা_ইনায়া_জারিশ
সুচনা পর্ব
চলবে-
0 Comments